আজিজুল হক রানা:: বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পারিবারিক অনৈক্য, কলহ এবং জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে জমিজমা নিয়ে সৃষ্ট এসব বিরোধের কারণে প্রতিদিন আদালতে ও থানায় জমা হচ্ছে নতুন নতুন অভিযোগ। ক্রমবর্ধমান এই মামলার জট সামাল দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বিচারকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, ঘুমধুম, বাইশারী, দৌছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক ও দেওয়ানি বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভূমির সঠিক সীমানা নির্ধারণের অভাব, ভুয়া দলিল তৈরি, পৈতৃক সম্পত্তির অসম বণ্টন এবং পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
অতীতের বেশ কিছু রেকর্ডকৃত মামলা ও তদন্তের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উপজেলায় দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলার একটি বড় অংশই পরবর্তীতে মারামারি ও ফৌজদারি অপরাধে রূপ নিয়েছে। পূর্বে রেকর্ড হওয়া একাধিক জমি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে সীমানা বিরোধ নিয়ে হওয়া সালিশ অমান্য করে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছে, যার ফলে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করতে হয়েছে। বিশেষ করে ঘুমধুম ও বাইশারী এলাকার কিছু পুরনো মামলার আইনি নথিতে দেখা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ে-ভাইয়ে বিরোধের জেরে আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বছরের পর বছর ধরে কেবল বাড়ছেই, যা দীর্ঘমেয়াদী পারিবারিক শত্রুতায় রূপ নিয়েছে।
থানা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানি মামলার পাশাপাশি এসব বিরোধের জেরে মারামারি, হামলা ও নারী নির্যাতনের মতো ফৌজদারি মামলাও আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। প্রতিদিন আদালতে মামলার শুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান যে, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের কারণে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত করতে গিয়ে তাদের মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। এতে একদিকে যেমন মূল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়, অন্যদিকে মামলার সংখ্যা যে হারে বাড়ছে সে তুলনায় বিচারক ও লজিস্টিক সাপোর্ট সীমিত হওয়ায় নতুন মামলার চাপে পুরনো মামলার জট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সমাজসেবকদের মতে, এভাবে মামলা-মোকদ্দমা বাড়তে থাকলে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন পুরোপুরি ভেঙে পড়বে এবং মামলার খরচ চালাতে গিয়ে অনেক দরিদ্র পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য থানা বা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কারবারী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সামাজিক সালিশি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া উচিত। পারিবারিক ও জমিজমার বিরোধগুলো আলোচনার টেবিলে সমাধান করা গেলে একদিকে যেমন অর্থ ও সময় বাঁচবে, অন্যদিকে আদালত ও পুলিশের ওপর চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশক: আবদুল মাজেদ, সম্পাদক: শ.ম.গফুর, নির্বাহী সম্পাদক: হামিদুল হক, বার্তা: সম্পাদক: আজিজুল হক রানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক: এম.রহমান সীমান্ত, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: +880 1862-779582
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত