সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার):: কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা একটি অনলাইন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) সময়মতো না পাওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই আইনি প্রক্রিয়াগত বিলম্বকে কেন্দ্র করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই অন্তু বড়ুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে জিডির বাদীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন ঈদগাঁও থানায় অনলাইনে একটি জিডি (নং-২১০) দায়ের করেন ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা সাবেকুন নাহার। জিডিতে তিনি তার বড় বোনের মেয়ে রেসমি আক্তার, রেসমির স্বামী আয়াত উল্লাহ, বড় বোন রেহেনা আক্তার এবং দুলাভাই ছাবের আহমদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনেন। অভিযোগ পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। তদন্তের পূর্বানুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন পাঠানোর পাশাপাশি শারীরিক আঘাতের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ভুক্তভোগীর মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) সংগ্রহের জন্য রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথানিয়মে আবেদন করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালত থেকে দ্রুত অনুমতি মিললেও রামু হাসপাতাল থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আলামতটি না থাকায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই অন্তু বড়ুয়া জানান, জিডি তদন্তে বিলম্বের কারণ বাদীকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল এবং তাকে মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহে সহযোগিতার অনুরোধও করা হয়। অন্যথায় সরকারি প্রক্রিয়ায় হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট পাওয়া মাত্র প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে বাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার শুরু করেন, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা অন্তু বড়ুয়া নিজ উদ্যোগে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর গত ২৭ জুন ঈদগাঁও থানার নন-এফআইআর নং-২১/২৬ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, একই বাদী সাবেকুন নাহারের করা ঈদগাঁও থানার আরেকটি অভিযোগ (এসডিআর নং-৩৪/২৬) তদন্তের বিষয়ে পুলিশ জানায়, সেটি ছিল সম্পূর্ণ পারিবারিক বিরোধ। অভিযোগে বাদী তার বাবা, মা ও বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বামীর বিদেশযাত্রা, পাওনা অর্থ এবং হুমকির বিষয় উল্লেখ করেছিলেন। ওই অভিযোগের তদন্তভার পাওয়ার পর এএসআই অন্তু বড়ুয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পারিবারিক বিরোধটি সফলভাবে মীমাংসা করে দেন। পরবর্তীতে বাদীর স্বামী দেশে ফিরে আসায় সেই বিরোধের স্থায়ী অবসান ঘটে। পুলিশের দাবি, উভয় ঘটনাতেই আইন ও বিধি অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্তে বিলম্বের পেছনে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না; বরং প্রয়োজনীয় মেডিকেল নথি প্রাপ্তির অপেক্ষাই ছিল প্রধান কারণ।
প্রকাশক: আবদুল মাজেদ, সম্পাদক: শ.ম.গফুর, নির্বাহী সম্পাদক: হামিদুল হক, বার্তা: সম্পাদক: আজিজুল হক রানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক: এম.রহমান সীমান্ত, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: +880 1862-779582
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত