আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, দ্য রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৯০৮ এর ৭, ১৬ এবং ৬৯ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি সাব-ডিস্ট্রিক্টে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস স্থাপন এবং সেখানে রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য অগ্নিনিরাপত্তাসহ উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে মহেশখালী অফিসের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। সরেজমিনে দেখা গেছে, একটি আবাসিক ভবনের ছোট ছোট কক্ষ ও সংকীর্ণ করিডোরে প্রতিদিন শত শত মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে সেবা নিচ্ছেন। বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় নারী, প্রবীণ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা অনেক সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। মাতারবাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম আক্ষেপ করে জানান, মানুষ এখানে কোটি টাকার জমি রেজিস্ট্রি করতে এলেও অফিসের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে এটিকে কোনো অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস বলে মনে হয়।
আবাসন সংকটের পাশাপাশি এখানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে মূল্যবান সরকারি নথি ও দলিল। আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ বা উন্নত রেকর্ড রুম না থাকায় কয়েক দশকের পুরোনো রেজিস্টার বইগুলো গাদাগাদি করে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয় দলিল লেখকদের মতে, বর্ষাকালে আর্দ্রতার কারণে দলিল নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো বড় দুর্ঘটনায় দীর্ঘদিনের সরকারি রেকর্ড পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমি রেজিস্ট্রেশন থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই জনসেবামূলক দপ্তরের নিজস্ব অবকাঠামো বা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পার্কিং ও শৌচাগার সুবিধার অভাবসহ আধুনিক টোকেন ব্যবস্থা না থাকায় শিশু নিয়ে আসা নারী সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও এই দপ্তরের স্থায়ী ভবন নির্মাণে দীর্ঘ এক যুগেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
ভূমি প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি সংক্রান্ত নথি একটি দেশের মূল্যবান সম্পদ এবং এগুলো সুরক্ষিত না থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মালিকানা জটিলতা ও আইনি বিরোধ তৈরি হতে পারে। তাই মহেশখালীর মতো দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি আধুনিক সাব-রেজিস্ট্রার কমপ্লেক্স নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। এই বিষয়ে authorities-এর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও অফিস সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে নিজস্ব ভবন নির্মাণের বিষয়টি বর্তমানে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনাধীন রয়েছে। দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুর ভূমি ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাকে দ্রুত আধুনিক ও নিরাপদ করা না হলে জনসেবার মান যেমন প্রশ্নের মুখে পড়বে, তেমনি প্রশাসনিক জটিলতাও বহুগুণ বেড়ে যাবে।
প্রকাশক: আবদুল মাজেদ, সম্পাদক: শ.ম.গফুর, নির্বাহী সম্পাদক: হামিদুল হক, বার্তা: সম্পাদক: আজিজুল হক রানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক: এম.রহমান সীমান্ত, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: +880 1862-779582
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত