গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, মহেশখালী (কক্সবাজার):: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযোগে বিএনপি নেতা ও কুতুবজোম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলমকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মহেশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বটতলী বাজার ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহেশখালী থানার পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী বাজারে অভিযান পরিচালনা করে। বাজারের একটি দোকান থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত ও পলাতক আসামি মো. আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করার পর তিনি চিৎকার শুরু করেন। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পুলিশের অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলমের নেতৃত্বে একদল লোক এসে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় কনস্টেবল তানভীর হোসেন আহত হন এবং এই হট্টগোলের সুযোগ নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবুল কাশেমকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের উদ্ধার করে এবং আহত কনস্টেবলকে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
এই ঘটনার পরদিন ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে মহেশখালী থানার পিএসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ ইকবাল বাদী হয়ে থানায় মামলাটি রুজু করেন। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ২২৪, ২২৫, ৩৩২, ৩০৭ ও ৩৫৩ ধারায় সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা এবং আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় মৌলভী শফিউল আলম ও ছিনতাই হওয়া আসামি মো. আবুল কাশেম ছাড়াও মঈনউদ্দিন গাদ্দাফি, ইমরান সানজু, মোহাম্মদ জাফর, মোহাম্মদ সোলতান, মো. আরিফ উল্লাহ, আবদুল আলম, নেছার উদ্দিন, মোহাম্মদ হেলাল, তাহসির ইসলাম তুষার, মো. আবصار, মো. বাবুল, আলম মাঝি, সৈয়দুল হক ও খোকন দে-সহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী পিএসআই মোহাম্মদ ইকবাল জানান, ঘটনার পর পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মূল আসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। এদিকে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলম কিংবা অন্য কোনো আসামির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মহেশখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক: আবদুল মাজেদ, সম্পাদক: শ.ম.গফুর, নির্বাহী সম্পাদক: হামিদুল হক, বার্তা: সম্পাদক: আজিজুল হক রানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক: এম.রহমান সীমান্ত, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: +880 1862-779582
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত