মহেশখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দিদার আলম জানান, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। আজ যারা বন্যায় সর্বস্ব হারিয়েছেন, তাদের ওপর কিস্তির চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ ক্ষুদ্র ঋণের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের আরও সংকটে ফেলে দেওয়া নয়। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষেত পানির নিচে, জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না এবং দিনমজুররা কাজের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনাকারী এনজিওগুলোর উচিত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের তালিকা তৈরি করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা এবং কিস্তি আদায় সাময়িক স্থগিত, সময় বৃদ্ধি কিংবা জরিমানা মওকুফের মতো মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছে এবং মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অতীতে বিভিন্ন দুর্যোগের সময় কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে সচেতন নাগরিকরা জানান, এবার এনজিওগুলো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখালে তা ঋণগ্রহীতা ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই ইতিবাচক হবে।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্তদের কিস্তি পরিশোধের সময় বাড়িয়ে সহজ শর্তে পুনঃতফসিল বা নতুন ঋণ সহায়তা দেওয়া গেলে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিওগুলোর প্রতি দুর্যোগকালীন সময়ে কিস্তির নামে কোনো পরিবার যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
প্রকাশক: আবদুল মাজেদ, সম্পাদক: শ.ম.গফুর, নির্বাহী সম্পাদক: হামিদুল হক, বার্তা: সম্পাদক: আজিজুল হক রানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক: এম.রহমান সীমান্ত, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: +880 1862-779582
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত