মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু:: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির জারুলিয়াছড়ি সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তার নাম আব্দুল করিম (২৫)। বিস্ফোরণে তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) জারুলিয়াছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৪৬-৪৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১০০ মিটার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গরবিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন আউং থা পায়া পোস্টের দায়িত্বাধীন এলাকা বলে জানা গেছে।
আহত আব্দুল করিম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মকতুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুল করিম আরও তিনজনের সঙ্গে প্রায়ই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যাতায়াত করতেন। মঙ্গলবারও তারা সীমান্ত অতিক্রম করার পর হঠাৎ একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আব্দুল করিম গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের পর তার সঙ্গে থাকা অপর তিনজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজারে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পুঁতে রাখা স্থলমাইনে পা পড়ায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানা এলাকার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা মো. কামাল মিয়া বলেন, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আহত যুবককে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির, পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্সের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক: আবদুল মাজেদ, সম্পাদক: শ.ম.গফুর, নির্বাহী সম্পাদক: হামিদুল হক, বার্তা: সম্পাদক: আজিজুল হক রানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক: এম.রহমান সীমান্ত, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: +880 1862-779582
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত