গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, মহেশখালী (কক্সবাজার):: মহেশখালীতে আবারও ব্যাগভর্তি অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার ছোট মহেশখালীর ঠাকুরতলা এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে এসব অস্ত্রসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের প্রকৃতি, সংখ্যা এবং এগুলো কোথা থেকে আনা হচ্ছিল, তা বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ২১ আগস্ট রাতে মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি এলাকার পাহাড়ি আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র আট দিনের ব্যবধানে আবারও ঠাকুরতলায় সিএনজি থেকে অস্ত্র ও তৈরির সরঞ্জাম জব্দ হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি ঘটনা মহেশখালীতে অস্ত্রের উৎপাদন, উৎস ও সরবরাহচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মূল নজর দেওয়া হচ্ছে এই অস্ত্রের উৎস এবং চূড়ান্ত গন্তব্যের ওপর। সিএনজিতে পরিবহনের সময় অস্ত্র ও তৈরির সরঞ্জাম একসঙ্গে পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, এর নেপথ্যে সুসংগঠিত কোনো অপরাধী চক্র জড়িত থাকতে পারে। আটককৃতদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা চেষ্টা চলছে, এসব অস্ত্র কোনো স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠী নাকি বাইরের কোনো সংগঠনের কাছে সরবরাহের কথা ছিল। পাশাপাশি মিঠাছড়ির পাহাড়ি আস্তানার ঘটনার সঙ্গে এই ঠাকুরতলার ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মহেশখালীর বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা লোকচক্ষুর আড়ালে এসব দুর্গম এলাকায় অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তোলে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘনঘন এমন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, কেবল বাহকদের আটক না করে অস্ত্রের কাঁচামাল সরবরাহকারী, কারিগর এবং মূল মদদদাতাদের চিহ্নিত করে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হোক।
ঠাকুরতলার এই ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ উদ্ধার অভিযান মনে হলেও, সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অস্ত্রের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের বের করা এবং মহেশখালীর গোপন অস্ত্র সরবরাহ রুটগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
প্রকাশক: আবদুল মাজেদ, সম্পাদক: শ.ম.গফুর, নির্বাহী সম্পাদক: হামিদুল হক, বার্তা: সম্পাদক: আজিজুল হক রানা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক: এম.রহমান সীমান্ত, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: +880 1862-779582
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত