
মাসের পর মাস ভোগান্তিতে জমির মালিকরা, প্রশাসনিক সেবা বিকেন্দ্রীকরণের দাবি
গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী (কক্সবাজার):: রাষ্ট্রের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে মহেশখালীর মানুষের বাপ-দাদার ভিটেমাটি, কৃষিজমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু সেই জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে জমির মালিকদের বারবার ছুটতে হচ্ছে কক্সবাজার জেলা শহরে। এতে মাসের পর মাস ভোগান্তি, অর্থ ব্যয় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে স্থানীয়দের।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ একাধিক মেগা প্রকল্পের কারণে মহেশখালী এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নকেন্দ্র। এসব প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণ পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, মালিকানা যাচাই, শুনানি ও ফাইলের অগ্রগতি জানতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় যেতে হচ্ছে জমির মালিকদের। বিশেষ করে দূরবর্তী ইউনিয়নের বাসিন্দারা পড়ছেন বেশি দুর্ভোগে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মহেশখালী উপজেলা সদরে জেলা প্রশাসনের অধীনে একটি এলএ ক্যাম্প অফিস বা স্থায়ী সেবা কেন্দ্র চালু করা হোক। এতে জমির মালিকদের কাগজপত্র জমা, নথি যাচাই, শুনানি ও ক্ষতিপূরণের ফাইলের অগ্রগতি জানার সুযোগ স্থানীয়ভাবেই তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমবে।
স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্ধারিত বিধান থাকলেও মালিকানা ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। তাই ক্ষতিপূরণ প্রদানের অগ্রগতি ও বিলম্বের কারণ স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের মাধ্যমে বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি উঠেছে।
মহেশখালীর মানুষের প্রত্যাশা, উন্নয়নের স্বার্থে জমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দ্রুত ও সহজে নিশ্চিত করা হোক। দেশের উন্নয়নে জমি দিতে পারলে সেই জমির ক্ষতিপূরণ পেতে কেন কক্সবাজারে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে? মহেশখালীতে একটি এলএ অফিস বা স্থায়ী সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।