
মাহমুদুল হাসান:: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকায় অবস্থিত ভাজাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনটি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ভাজাবনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৬২ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে।
বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মিত হলেও পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনটি এখনো অপসারণ করা হয়নি। ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নতুন ভবনটি পুরাতন ভবনের পিছনে হওয়াতে স্কুলের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনি ঝুকিপূর্ণ ভবনের সুরু গলি দিয়ে শিক্ষকসহ সকল শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করতে চরম অসুবিধায় সম্মুখীন হতে হয়।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক ফখর উদ্দিন বলেন, “আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি। পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কখন কী ঘটে, তা বলা যায় না। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ভবনটি অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করছি”।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদ হোছাইন বলেন, “নতুন ভবনটি পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনের পেছনে অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “মা-সমাবেশে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে আসলে সামনের পরিত্যক্ত ভবনটি নিয়ে তাঁদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তাই ভবনটি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন”।
স্থানীয় অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে অতিশিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসের পর এখন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।