
সরওয়ার কামাল, মহেশখালী:: কক্সবাজারের মহেশখালীতে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষা এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলে ও মৎস্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল। সভাটি পরিচালনা করেন মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র দে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক কায়সার হামিদ মনি এবং মহেশখালী উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. এরশাদ উল্লাহ। এ ছাড়া উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের সহকারী মাহমুদুল হক, শাকিবিল্লাহ, গিয়াস উদ্দিন, শাহ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মা ইলিশ সংরক্ষণের গুরুত্ব, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা এবং ইলিশের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ইলিশ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদের টেকসই উৎপাদন বজায় রাখতে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে ইলিশের পোনা ও পরবর্তী প্রজন্মের উৎপাদন বাড়বে, যা দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।