
মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:: দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এরই অংশ হিসেবে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের আয়োজনে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
রোববার (২আগস্ট-২৬) ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, সদর দপ্তর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড, বান্দরবান সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
এতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১১টি সম্প্রদায়ের মোট ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল,অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মূল জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন প্রত্যন্ত পাড়াগুলোর কারণে নিয়মিত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন।
জরুরি পরিস্থিতিতে সময়মতো রোগীকে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় অনেক সময় সাধারণ রোগও জটিল আকার ধারণ করে।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রসবকালীন ঝুঁকি শনাক্তকরণ, নিরাপদ প্রসব ও নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যায় নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বান্দরবান রিজিয়ন প্রতিটি পাড়া থেকে শিক্ষিত ও আগ্রহী নারী নির্বাচন করে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজ নিজ এলাকায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।