
স্টাফ রিপোর্টার, মহেশখালী (কক্সবাজার):: টানা অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় ১৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে হাইজিন কিট বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে নেওয়া এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
রোববার (০২ আগস্ট) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে হাইজিন কিট তুলে দেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম, উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা বনি ইয়ামিন জনি, প্রকল্প কর্মকর্তা সুব্রত বাবু এবং উপজেলা প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়।
হাইজিন কিটে দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা দুর্যোগকবলিত পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অবহেলা করা হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন নিরূপণ করে উপজেলা প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, নিরাপদ স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
হাইজিন কিট পেয়ে উপকারভোগীরা সরকার, উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, দুর্যোগের এই সময়ে এমন সহায়তা স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি মানসিকভাবে সাহস জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।