শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশখালী: সম্ভাবনার দ্বীপ থেকে কৌশলগত অর্থনৈতিক হাবে উত্তরণের গল্প উন্নয়নের মহাযজ্ঞে কতটা বদলেছে মানুষের জীবন? মহেশখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত উদীয়মান প্রতিভা ইয়াসার আহমদ জীমের অকাল প্রয়াণে মহেশখালীজুড়ে শোক;  দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দাবি! মহেশখালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুঃ পরিবারের দাবি পিটিয়ে হত্যা,তদন্তে পুলিশ! উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু অপহরণ: আরও তিনজন গ্রেপ্তার উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক শিক্ষার্থীদের পাশে পুলিশ: নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে কক্সবাজারে পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ! প্রতিশ্রুতি মিলেছে,মূল্য মেলেনি, মন্ত্রী-এমপির আশ্বাসের পরও বাড়েনি লবণের দাম, সংকটে হাজারো প্রান্তিক চাষী! মানবিকতার আড়ালে স্বার্থের বাণিজ্য: দুর্যোগ আর অসহায়ত্বকে পুঁজি করার উৎসব! অনলাইন শপ Optiluxbd-এর প্রতারণা: লটারিতে জেতা বাইক ১ বছরেও পাননি রোহিঙ্গা যুবক একারাম

মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হলেও অন্ধকারে মহেশখালী

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ১৩১ বার পড়া হয়েছে
  • চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট, মিলছে মাত্র ১০-১২; স্থানীয়দের জন্য বিদ্যুৎ সংরক্ষণের দাবি!

গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, মহেশখালী (কক্সবাজার):: দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বিপুল পরিমাণের বিদ্যুৎ উৎপাদনের খোদ উৎসস্থল মহেশখালী উপজেলাই এখন তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেই এলাকার জমি অধিগ্রহণ করে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প নির্মাণ করা হলো, সেই এলাকার মানুষই আজ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

​বর্তমানে মহেশখালী উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট, যা চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় লোডশেডিং, তীব্র ভোল্টেজ ওঠানামা এবং হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

​স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, হাসপাতাল ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, এই বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষুদ্র শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। আবার সামান্য বৃষ্টি বা বাতাস হলেই ৩৩ কেভি ফিডারে ত্রুটি দেখা দেয়, যা মেরামত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে গোটা জনজীবনে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।

​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মহেশখালী এখন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে পরিচিতি পেলেও স্থানীয় জনগণ উন্নয়নের প্রকৃত সুফল পাচ্ছে না। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনালের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে এই অঞ্চলের মানুষ ফসলি জমি হারিয়েছে, পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা করছে এবং নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বিনিময়ে তাদের জন্য ন্যূনতম নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়নি।

​মহেশখালীর বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে জমির ওপর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে, সেই এলাকার মানুষ কেন অন্ধকারে থাকবে? জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার আগে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অধিকার। তারা আরও বলেন, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই হবে না, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ফিডার স্থাপন, বিকল্প সংযোগ ব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় উন্নয়নের নামে স্থানীয় মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়েই থাকবে।

​এই পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মহেশখালীবাসী। স্থানীয়দের বড় দাবি ও প্রত্যাশা হলো, মাতারবাড়িতে উৎপাদিত বিদ্যুতের ন্যায্য অংশ থেকে অন্তত ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি মহেশখালী উপজেলার জন্য বরাদ্দ দিয়ে এখানকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করা হোক।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-চট্টলা বাংলা , আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট