
গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, মহেশখালী (কক্সবাজার):: দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বিপুল পরিমাণের বিদ্যুৎ উৎপাদনের খোদ উৎসস্থল মহেশখালী উপজেলাই এখন তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেই এলাকার জমি অধিগ্রহণ করে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প নির্মাণ করা হলো, সেই এলাকার মানুষই আজ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বর্তমানে মহেশখালী উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট, যা চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় লোডশেডিং, তীব্র ভোল্টেজ ওঠানামা এবং হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, হাসপাতাল ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, এই বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষুদ্র শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। আবার সামান্য বৃষ্টি বা বাতাস হলেই ৩৩ কেভি ফিডারে ত্রুটি দেখা দেয়, যা মেরামত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে গোটা জনজীবনে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মহেশখালী এখন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে পরিচিতি পেলেও স্থানীয় জনগণ উন্নয়নের প্রকৃত সুফল পাচ্ছে না। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনালের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে এই অঞ্চলের মানুষ ফসলি জমি হারিয়েছে, পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা করছে এবং নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বিনিময়ে তাদের জন্য ন্যূনতম নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়নি।
মহেশখালীর বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে জমির ওপর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে, সেই এলাকার মানুষ কেন অন্ধকারে থাকবে? জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার আগে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অধিকার। তারা আরও বলেন, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই হবে না, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ফিডার স্থাপন, বিকল্প সংযোগ ব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় উন্নয়নের নামে স্থানীয় মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়েই থাকবে।
এই পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মহেশখালীবাসী। স্থানীয়দের বড় দাবি ও প্রত্যাশা হলো, মাতারবাড়িতে উৎপাদিত বিদ্যুতের ন্যায্য অংশ থেকে অন্তত ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি মহেশখালী উপজেলার জন্য বরাদ্দ দিয়ে এখানকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করা হোক।