শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশখালী: সম্ভাবনার দ্বীপ থেকে কৌশলগত অর্থনৈতিক হাবে উত্তরণের গল্প উন্নয়নের মহাযজ্ঞে কতটা বদলেছে মানুষের জীবন? মহেশখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত উদীয়মান প্রতিভা ইয়াসার আহমদ জীমের অকাল প্রয়াণে মহেশখালীজুড়ে শোক;  দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দাবি! মহেশখালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুঃ পরিবারের দাবি পিটিয়ে হত্যা,তদন্তে পুলিশ! উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু অপহরণ: আরও তিনজন গ্রেপ্তার উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক শিক্ষার্থীদের পাশে পুলিশ: নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে কক্সবাজারে পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ! প্রতিশ্রুতি মিলেছে,মূল্য মেলেনি, মন্ত্রী-এমপির আশ্বাসের পরও বাড়েনি লবণের দাম, সংকটে হাজারো প্রান্তিক চাষী! মানবিকতার আড়ালে স্বার্থের বাণিজ্য: দুর্যোগ আর অসহায়ত্বকে পুঁজি করার উৎসব! অনলাইন শপ Optiluxbd-এর প্রতারণা: লটারিতে জেতা বাইক ১ বছরেও পাননি রোহিঙ্গা যুবক একারাম

শান্তির পথে কালারমারছড়া এসআই রাজু আহমেদ গাজীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বদলে যাচ্ছে জনপদের চিত্র!

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, মহেশখালী (কক্সবাজার):: দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস,অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল মহেশখালী উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন কালারমারছড়া। সন্ধ্যা নামলেই জনমনে নেমে আসত ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা।

দিন ও রাতের আঁধারে চলত অস্ত্রধারীদের দাপট, সড়কে রাহাজানি, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় গড়ে উঠেছিল সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা। দিন দুপুরে আধিপত্য বিস্তার ও চিংড়ি গের দখল নিয়ে প্রকাশ্যে গুলা গুলি খুন, ডাকাতি মতো ঘটনা ঘটত, সাধারণ মানুষ ছিল ভীত-সন্ত্রস্ত। অভিযোগ ছিল, বহু সময় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলতেও সাহস পেত না স্থানীয়রা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রাজু আহমেদ গাজীর নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এলাকায় নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

পুলিশের নিয়মিত টহল, গোপন গোয়েন্দা নজরদারি, সাঁড়াশি অভিযান এবং অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমের ফলে অপরাধীদের প্রকাশ্য তৎপরতা অনেকটাই কমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষায়,“এক সময় যেখানে রাত হলেই আতঙ্ক শুরু হতো,এখন সেখানে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি নিয়ে চলাফেরা করতে পারছে।”
সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থেকে পুলিশের নজরদারিতে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কালারমারছড়ার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এসব এলাকায় সক্রিয় ছিল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী,ডাকাত ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। মাঝেমধ্যে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, প্রতিপক্ষকে হুমকি, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যেত।

স্থানীয়দের অভিযোগ,রাতের বেলায় সড়ক ডাকাতি, রাহাজানি ও পাহাড়ি পথে ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল প্রায় নিয়মিত। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে রাতের পর জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পেতেন। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।

তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্প সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে। বিশেষ করে এসআই রাজু আহমেদ গাজীর নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানকে কেন্দ্র
করে এলাকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়।

অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে বিশেষ সফলতা, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে সব অভিযানের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয়রা বলছেন অস্ত্র উদ্ধার ও পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য তৎপরতা কমেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে,পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অপরাধীদের মাঝে ভীতি তৈরি করেছে। ফলে অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, “খুনি, চোর, ডাকাত ও ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের এখন আগের মতো প্রকাশ্যে দেখা যায় না।” জনজীবনে ফিরছে স্বস্তি
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাজার, সড়ক ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, বর্তমানে রাতের বেলায়ও মানুষ কিছুটা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে। বিশেষ করে বাজারকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা কমেছে বলে দাবি করেন অনেকে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,আগে অস্ত্রধারীদের ভয়ে মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পেত না। এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধীরা চাপের মধ্যে রয়েছে বলেও মত দেন তারা।

সাহসী নেতৃত্বে পুলিশের সক্রিয়তা,স্থানীয়দের মতে, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠপর্যায়ে সাহসী ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার বিকল্প নেই। তারা মনে করেন, এসআই রাজু আহমেদ গাজীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে
আনতে ভূমিকা রাখছে।

এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে কালারমারছড়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও তথ্য প্রদান আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত দেন তারা।

শান্তির প্রত্যাশায় কালারমারছড়া,দীর্ঘ অস্থিরতার পর শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা এখন কালারমারছড়ার সাধারণ মানুষের প্রধান চাওয়া। স্থানীয়রা মনে করেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় এই জনপদে স্থায়ী নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরে আসবে।

জনগণের প্রত্যাশা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কালারমারছড়াকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত এলাকায় পরিণত করা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ ভয়ভীতি ছাড়া স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-চট্টলা বাংলা , আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট