শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশখালীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: অস্ত্র, ইয়াবা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় ৯ পরোয়ানাভুক্ত সালাউদ্দিন চট্টগ্রামের খুলশী থেকে গ্রেপ্তার মহেশখালীর তিন ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে হাইকোর্টের রুল হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়তে মহেশখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদ্‌যাপন বর্নিল আয়োজনে বান্দরবানে গণঅধিকার পরিষদ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পরিচিতি সভা পালংখালীতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দিয়ে বসতভিটা দখলে নিতে হামলা-ভাংচুর অভিযানের পরও মেরিনড্রাইভে নির্মাণযজ্ঞ, ‘সরকারি দপ্তর’ ম্যানেজের দাবি! বান্দরবানের নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ইসলামী সমাজকল্যাণ সমিতি ও পাঠাগারের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ বান্দরবানে ৫ হাজার ৬৩০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু মহেশখালীতে ট্রলি গাড়ি উল্টে চাকার নিচে পড়ে চালক আনোয়ারের মৃত্যু সহকর্মীর স্মৃতিতে আবেগঘন শ্রদ্ধা, রিয়াদ আরাফাতের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে কবর জিয়ারত করলেন আতাউল্লাহ বুখারী

এমপির নির্দেশে সুইচগেট খোলায় মাতারবাড়িতে কমলো জলাবদ্ধতা, স্থায়ী সমাধানের দাবি স্থানীয়দের

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০৪ বার পড়া হয়েছে

গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, নিজস্ব প্রতিনিধি, মহেশখালী (কক্সবাজার):: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মহেশখালী–কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ-এর সরাসরি নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে এই জরুরি পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

​প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে রাঙ্গাখালী, ছোয়াখালী, ছুরোবর ঘোনা এবং উত্তর পাশের ব্যাঙ ঘোনা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সুইচগেটগুলো খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত স্বাভাবিক প্রবাহে সাগর ও সংযুক্ত জলপথে নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি কমতে শুরু করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। এর আগে টানা বর্ষণের কারণে মাতারবাড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, গ্রামীণ সড়ক এবং বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থী, দিনমজুর, কৃষক, জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক স্থানে দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুইচগেট খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ছিল। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ফলে জলাবদ্ধতার তীব্রতা কমতে শুরু করেছে এবং মানুষের ভোগান্তিও কিছুটা লাঘব হয়েছে। তারা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই মাতারবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এলাকার অনেক খাল, নালা ও প্রাকৃতিক পানি চলাচলের পথ ভরাট, সংকুচিত বা অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে অল্প সময়ের ভারী বর্ষণেও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শুধু জরুরি বা সাময়িক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, খাল পুনঃখনন, পানি নিষ্কাশন পথ সংরক্ষণ, সুইচগেটের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্যোগকালে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ দ্রুত সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, তাৎক্ষণিক পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাতারবাড়ির সার্বিক জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি স্থায়ী ও বিজ্ঞানভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করবে। এতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ, কৃষিক্ষতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিঘ্ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-চট্টলা বাংলা , আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট