মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশখালীতে বিয়ের ৩ মাসের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, যৌতুকের জন্য হত্যার অভিযোগ সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’, সরেজমিনে মিলল ভিন্ন চিত্র হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে ত্রিপুরা প্রতিনিধি নিয়োগের দাবি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটি গঠন: প্রধানমন্ত্রীকে খাগড়াছড়িতে মারমা ঐক্য পরিষদের ধন্যবাদ পানছড়িতে বিদ্যালয়গুলোর পরিচ্ছন্নতায় জেলা পরিষদ সদস্য রুমেল মারমার উদ্যোগ হোয়ানকে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মহেশখালীতে “জ্বালানির জন-মালিকানা ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর” শীর্ষক স্থানীয় নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত মহেশখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান মহেশখালী উপজেলায় ভার্চুয়ালী উদ্বোধন বান্দরবানে ওয়াল্ড ভিশন ও গ্রাউস কতৃক ৫০টি পরিবারের মাঝে ১হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক বিতরণ

মহেশখালীতে পল্লী বিদ্যুতের ‘মনগড়া’ বিলের অভিযোগ: চরম লোডশেডিংয়ের মধ্যেও গ্রাহকদের পকেটে বাড়তি চাপ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের | নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী (কক্সবাজার):: কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিলে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার অসংখ্য গ্রাহক দাবি করছেন, গত কয়েক মাসের তুলনায় তাদের বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ করেই দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। অথচ একই সময়ে এলাকাজুড়ে ছিল ঘনঘন লোডশেডিং, ৩৩ কেভি ফিডারের বারবার ত্রুটি এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বিল পাওয়ায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

​ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, জুন ও জুলাই মাসে অনেক এলাকায় প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। ফিডারের ত্রুটি ও কারিগরি সমস্যার কারণে নিয়মিত সরবরাহ বন্ধ থাকলেও মাস শেষে বিলে যে ইউনিট ব্যবহার দেখানো হয়েছে, তা তাদের স্বাভাবিক ব্যবহারের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গ্রাহকদের মতে, মিটারের প্রকৃত রিডিং না নিয়ে অফিসে বসেই অনুমাননির্ভর বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকজন গ্রাহক দাবি করেছেন, গত কয়েক মাস ধরে কোনো মিটার রিডার তাদের বাড়িতে যাননি।

​অতিরিক্ত ও ভুল বিল সংশোধনের জন্য মহেশখালী জোনাল অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। লিখিত অভিযোগ জমা দিতে গিয়ে উল্টো প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকায় সাধারণ মানুষকে ক্ষোভ ও চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে দফায় দফায় অফিসে দৌড়াতে হচ্ছে।

​বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহ এবং ভৌতিক বিলের প্রভাবে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কোল্ড স্টোরেজ, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিনির্ভর ব্যবসায় প্রতিদিন লোকসান গুনছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মৎস্য ও লবণসমৃদ্ধ এই উপকূলীয় অঞ্চলে বরফ উৎপাদন এবং মাছ সংরক্ষণ কার্যক্রম বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি তুঙ্গে পৌঁছেছে।

​জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক বিল বৃদ্ধি পেলে অবিলম্বে নমুনাভিত্তিক মিটার পরীক্ষা ও বিলিং সফটওয়্যার যাচাই করা উচিত। সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিলিং ব্যবস্থাকে পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ করতে হবে। প্রতিটি মিটারের ডিজিটাল রিডিং যাচাই, নিয়মিত অডিট এবং অনলাইনে ব্যবহারকারীরা নিজেদের তথ্য যাচাই করার সুযোগ নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে।

​উত্থাপিত অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে মহেশখালী জোনাল অফিসের জোনাল ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​বর্তমান পরিস্থিতি নিরসনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সচেতন নাগরিকেরা জুন ও জুলাই মাসের সব বিদ্যুৎ বিল নিরপেক্ষভাবে পুনঃযাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান প্রতিটি সংযোগের প্রকৃত মিটার রিডিং মিলিয়ে ভুল বিল সংশোধন করা হোক এবং ভূতুড়ে বিল তৈরির পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। এছাড়া ৩৩ কেভি ফিডারের স্থায়ী সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকবান্ধব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি জানান তারা।

​মহেশখালী বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি অবকাঠামো, পর্যটন, লবণ ও মৎস্য খাত—সবকিছুই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। এমন একটি অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে সেবা না দিয়ে উল্টো বাড়তি বিল আদায়ের অভিযোগ জনআস্থা ও সুশাসনের ওপর প্রশ্ন তোলে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রতিকার নিশ্চিত করবে বলেই আশা করছেন মহেশখালীর বাসিন্দারা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-চট্টলা বাংলা , আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট