
গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সোনাদিয়া দ্বীপে সরকারি খাস জমি ও পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) দখল করে আবারও অবৈধ কটেজ ও রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের পরিচালনা করা জোরদার উচ্ছেদ অভিযানের মাত্র কয়েক মাস যেতে না যেতেই একই জায়গায় নতুন করে এসব স্থাপনা গড়ে তোলায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরণের প্রশ্ন।
জানা গেছে, গত ৯ মে মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাদিয়া এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদারের নেতৃত্বে এক যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় চালানো ওই অভিযানে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি অবৈধ কটেজ, রিসোর্ট ও ছোট-বড় অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়ে সরকারি খাস জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। সে সময় ভবিষ্যতে পুনর্দখল রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার কথা জানিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।
তবে উচ্ছেদের পর কিছুদিন এলাকা শান্ত থাকলেও সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী দখলচক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তারা জানান, প্রশাসনের নজরদারির অভাবের সুযোগ নিয়ে উদ্ধার করা জমিতেই নতুন করে বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে কটেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও স্থায়ী ও পাকা অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। উচ্ছেদ হওয়া জমিতে কীভাবে প্রকাশ্যে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হলো এবং কেন জড়িতদের থামানো হলো না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনাদিয়া দ্বীপটি সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম ছাড়ার ক্ষেত্র, পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয় ও উপকূলীয় বালিয়াড়িসহ বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের অন্যতম মূল আবাসস্থল। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে দ্বীপটির স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি চরম ধ্বংসের মুখে পড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল একদিনের অভিযানে সরকারি খাস জমি রক্ষা সম্ভব নয়; পুনর্দখল রোধে নিয়মিত মনিটরিং, জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং নির্মাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, অনতিবিলম্বে এসব নতুন করে নির্মিত অবৈধ কটেজ চিহ্নিত করে পুনরায় উচ্ছেদ করতে হবে এবং খাস জমি গ্রাসকারী চক্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ সমন্বয়ে দ্বীপে একটি স্থায়ী নজরদারি দল গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।