
গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের| নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী (কক্সবাজার):: দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সম্ভাবনাময় তরুণ মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় ইয়াসার আহমদ জীম (১৮) ঢাকার সাভারে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান(বিকেএসপি) ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিকভাবে মারা গেছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মহেশখালীসহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। একটি সম্ভাবনাময় ক্রীড়া প্রতিভার এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল ইয়াসার আহমদ জীমের। কঠোর অনুশীলন, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি মার্শাল আর্টে নিজেকে গড়ে তুলছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি বিকেএসপি তে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার জীবনাবসান ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জীম ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, মেধাবী ও পরিশ্রমী।পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অসাধারণ নিষ্ঠার কারণে তিনি পরিবার ও এলাকার গর্বে পরিণত হয়েছিলেন। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতিই নয়, বরং মহেশখালীর ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও বড় ধরনের ক্ষতি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের বার্তায় ভরে উঠেছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, যথাযথ পরিচর্যা ও সুযোগ পেয়ে জীম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এদিকে দুর্ঘটনার পর ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কী পরিস্থিতিতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলেন, ঘটনাস্থলের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না এসব প্রশ্ন স্থানীয়দের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিভিন্ন গুঞ্জনের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে,দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিতে এমন দুর্ঘটনা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে,সে লক্ষ্যে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, একজন খেলোয়াড় তৈরি করতে পরিবার, প্রশিক্ষক ও রাষ্ট্রকে দীর্ঘ সময় বিনিয়োগ করতে হয়। ফলে এমন একটি দুর্ঘটনায় শুধু একটি প্রাণই ঝরে যায় না,হারিয়ে যায় দেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও। তাই দেশের সব ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ছাত্রাবাস ও আবাসিক ক্যাম্পাসে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নিয়মিত পরিদর্শন আরও জোরদার করা সময়ের দাবি।
সম্ভাবনাময় তরুণ মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় ইয়াসার আহমদ জীম(১৮) মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার সন্তান তারঁ পিতা মোক্তার আহমদ মেহেরীয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
মহেশখালীবাসী এখন একটাই প্রত্যাশা করছেন ইয়াসার আহমদ জীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন হোক,কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে আর কোনো সম্ভাবনাময় তরুণকে যেন এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকায় জীমের মরদেহ আইনি কার্যক্রম চলছে পরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ও দাফনের প্রস্তুতি চলছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অগ্রগতির দিকেও গুরুত্বসহকারে নজর রাখছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।