মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশখালীতে বিয়ের ৩ মাসের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, যৌতুকের জন্য হত্যার অভিযোগ সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’, সরেজমিনে মিলল ভিন্ন চিত্র হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে ত্রিপুরা প্রতিনিধি নিয়োগের দাবি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটি গঠন: প্রধানমন্ত্রীকে খাগড়াছড়িতে মারমা ঐক্য পরিষদের ধন্যবাদ পানছড়িতে বিদ্যালয়গুলোর পরিচ্ছন্নতায় জেলা পরিষদ সদস্য রুমেল মারমার উদ্যোগ হোয়ানকে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মহেশখালীতে “জ্বালানির জন-মালিকানা ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর” শীর্ষক স্থানীয় নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত মহেশখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান মহেশখালী উপজেলায় ভার্চুয়ালী উদ্বোধন বান্দরবানে ওয়াল্ড ভিশন ও গ্রাউস কতৃক ৫০টি পরিবারের মাঝে ১হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক বিতরণ

গহীন পাহাড়ে কালাবদার আস্তানায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল পুলিশ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে

গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের| নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী (কক্সবাজার):: মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ১১ আগস্ট দিন ব্যাপি কথিত সন্ত্রাসী কালাবদা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রাজু আহমেদ গাজীর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে পাহাড়ের গহিনে তিনটি কথিত আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে।পুলিশের দাবি, এসব স্থাপনা অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় ও অবস্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।অভিযানকালে আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী,কালারমারছড়া দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের একটি অংশের আনাগোনার অভিযোগ রয়েছে। পাহাড়ের দুর্গমতা,ঘন জঙ্গল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে সেখানে আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুস সোলতান এর দিকনির্দেশনায় এস আই রাজু আহমেদ গাজী’র নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ পাহাড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করে।

অভিযানের আগেই পালিয়ে যায় সন্দেহভাজনরা পুলিশ সূত্র জানায়, পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনার জন্য ক্যাম্পের সদস্যরা পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হন। কিন্তু পুলিশ পাহাড়ের গহিনে পৌঁছানোর আগেই অভিযানের খবর কথিত সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে যায়। পুলিশের দাবি, তাদের নিয়োগ করা সোর্সের মাধ্যমে অভিযানের খবর পেয়ে কালাবদাসহ তার সহযোগীরা দ্রুত আস্তানা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে অভিযান চলাকালে কথিত সন্ত্রাসী দলের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের ব্যবহৃত স্থাপনা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম শনাক্ত করে পুলিশ।
পাহাড়ের নিচে, চূড়ায় ও বসতঘরে তিন আস্তানা অভিযানে তিনটি পৃথক স্থাপনার সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে একটি ছিল পাহাড়ের নিচের অংশে এবং দ্বিতীয়টি পাহাড়ের চূড়ায়। অপর স্থাপনাটি ছিল একটি বসতঘর। পুলিশ বলছে, ওই বসতঘরটি কালাবদাসহ তার সহযোগীরা নিয়মিত অবস্থান, রান্না, খাওয়া ও গোসলের কাজে ব্যবহার করত। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বসতঘরটির সঙ্গে পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও ছিল।সেখানে পানি তোলার মোটর ও পানির পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। অভিযানের সময় পুলিশ এসব সরঞ্জাম সরিয়ে নেয় এবং ঘরটি গুঁড়িয়ে দেয়।

দুর্গম পাহাড়কে নিরাপদ আশ্রয় বানানোর অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা অপরাধীদের জন্য সাময়িক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ের চূড়া ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে অবস্থান নিলে বাইরে থেকে তাদের গতিবিধি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ,পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের অপরাধীচক্রের উপস্থিতি থাকলে আশপাশের জনপদেও নিরাপত্তা হীনতা তৈরি হয়। ফলে শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অভিযানের পরও পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও টহল প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

পুলিশের অভিযানের তথ্য ফাঁসের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে, এদিকে পুলিশের অভিযানের খবর আগেভাগে সন্দেহভাজনদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অপরাধীদের নিয়োগ করা সোর্সের মাধ্যমে অভিযান সম্পর্কে তারা আগেই জানতে পারে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় ভবিষ্যৎ অভিযানের গোপনীয়তা রক্ষা এবং অপরাধীদের সহযোগী বা তথ্যদাতাদের শনাক্ত করার বিষয়টি পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। আস্তানা গুঁড়িয়ে অভিযানেই থামছে না পুলিশ, পুলিশ জানিয়েছে, পাহাড়ে অপরাধীদের ব্যবহৃত কথিত আস্তানা উচ্ছেদের পাশাপাশি এসব স্থাপনা কারা ব্যবহার করত,কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত এবং তাদের সঙ্গে কারা জড়িত এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রাজু আহমেদ গাজীর নেতৃত্বে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পলাতক সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের সহযোগীদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা,স্থায়ী নজরদারি স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দুর্গম পাহাড়ে একবার অভিযান পরিচালনা করে ফিরে এলে সেখানে আবারও অপরাধীরা আস্তানা গড়ে তুলতে পারে। তাই অভিযানের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী ও নিয়মিত পুলিশি নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ধারাবাহিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে দুর্গম পাহাড়কে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,কালারমারছড়ার দুর্গম পাহাড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পলাতক কালাবদাসহ তার সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-চট্টলা বাংলা , আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট