শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশখালী: সম্ভাবনার দ্বীপ থেকে কৌশলগত অর্থনৈতিক হাবে উত্তরণের গল্প উন্নয়নের মহাযজ্ঞে কতটা বদলেছে মানুষের জীবন? মহেশখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত উদীয়মান প্রতিভা ইয়াসার আহমদ জীমের অকাল প্রয়াণে মহেশখালীজুড়ে শোক;  দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দাবি! মহেশখালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুঃ পরিবারের দাবি পিটিয়ে হত্যা,তদন্তে পুলিশ! উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু অপহরণ: আরও তিনজন গ্রেপ্তার উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক শিক্ষার্থীদের পাশে পুলিশ: নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে কক্সবাজারে পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ! প্রতিশ্রুতি মিলেছে,মূল্য মেলেনি, মন্ত্রী-এমপির আশ্বাসের পরও বাড়েনি লবণের দাম, সংকটে হাজারো প্রান্তিক চাষী! মানবিকতার আড়ালে স্বার্থের বাণিজ্য: দুর্যোগ আর অসহায়ত্বকে পুঁজি করার উৎসব! অনলাইন শপ Optiluxbd-এর প্রতারণা: লটারিতে জেতা বাইক ১ বছরেও পাননি রোহিঙ্গা যুবক একারাম

বানের জলে ভাসছে মহেশখালী: এনজিও কর্মীদের ‘কিস্তির চাপ’ না দেওয়ার মানবিক আহ্বান

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, মহেশখালী (কক্সবাজার):: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, বৈরী আবহাওয়া ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সার্বিক জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বন্যায় কৃষিজমি, মাছের ঘের, লবণ মাঠ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দিনমজুরদের আয়ের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায়ের নামে কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা হয়রানি না করার জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এনজিও কর্মীদের প্রতি মানবিক আহ্বান জানিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং মহেশখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর দিদার আলম।

​মহেশখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দিদার আলম জানান, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। আজ যারা বন্যায় সর্বস্ব হারিয়েছেন, তাদের ওপর কিস্তির চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ ক্ষুদ্র ঋণের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের আরও সংকটে ফেলে দেওয়া নয়। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষেত পানির নিচে, জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না এবং দিনমজুররা কাজের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনাকারী এনজিওগুলোর উচিত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের তালিকা তৈরি করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা এবং কিস্তি আদায় সাময়িক স্থগিত, সময় বৃদ্ধি কিংবা জরিমানা মওকুফের মতো মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছে এবং মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অতীতে বিভিন্ন দুর্যোগের সময় কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে সচেতন নাগরিকরা জানান, এবার এনজিওগুলো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখালে তা ঋণগ্রহীতা ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই ইতিবাচক হবে।

​দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্তদের কিস্তি পরিশোধের সময় বাড়িয়ে সহজ শর্তে পুনঃতফসিল বা নতুন ঋণ সহায়তা দেওয়া গেলে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিওগুলোর প্রতি দুর্যোগকালীন সময়ে কিস্তির নামে কোনো পরিবার যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-চট্টলা বাংলা , আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট