শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশখালী: সম্ভাবনার দ্বীপ থেকে কৌশলগত অর্থনৈতিক হাবে উত্তরণের গল্প উন্নয়নের মহাযজ্ঞে কতটা বদলেছে মানুষের জীবন? মহেশখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত উদীয়মান প্রতিভা ইয়াসার আহমদ জীমের অকাল প্রয়াণে মহেশখালীজুড়ে শোক;  দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দাবি! মহেশখালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুঃ পরিবারের দাবি পিটিয়ে হত্যা,তদন্তে পুলিশ! উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু অপহরণ: আরও তিনজন গ্রেপ্তার উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক শিক্ষার্থীদের পাশে পুলিশ: নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে কক্সবাজারে পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ! প্রতিশ্রুতি মিলেছে,মূল্য মেলেনি, মন্ত্রী-এমপির আশ্বাসের পরও বাড়েনি লবণের দাম, সংকটে হাজারো প্রান্তিক চাষী! মানবিকতার আড়ালে স্বার্থের বাণিজ্য: দুর্যোগ আর অসহায়ত্বকে পুঁজি করার উৎসব! অনলাইন শপ Optiluxbd-এর প্রতারণা: লটারিতে জেতা বাইক ১ বছরেও পাননি রোহিঙ্গা যুবক একারাম

ঈদগাঁওয়ে চিকিৎসা সংকট, কাঙ্ক্ষিত সেবা বঞ্চিত জনগন, জোড়াতালি দিয়ে চলছে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার):: কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে নানা সীমাবদ্ধতা, তীব্র চিকিৎসক সংকট, নিরাপত্তা ও আবাসন সমস্যার মধ্য দিয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আলাদা কোনো অর্থনৈতিক কোড না থাকায় বেতন-ভাতার অভাব এবং পর্যাপ্ত বসার জায়গা না থাকার কারণে মেডিকেল অফিসাররা অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যাচ্ছেন। ফলে এই কেন্দ্রে প্রতিদিন আসা বিপুল সংখ্যক রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনকি এখানে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ডায়াগনস্টিক) সুযোগ না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে, চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে ও সংকট দূর করতে ইতিমধ্যে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিত্যক্ত তিনটি পুরনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে ৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  ​বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগকে হস্তান্তর করা একটি মাত্র দুই তলা বিশিষ্ট ভবনে গাদাগাদি করে চলছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। একই ভবনে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও নতুনভাবে একই ভবনে অনুমোদন দেয়া হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ​নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমাদের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। কেন্দ্রে প্রতিদিন রোগীর চাপ খুব বেশি, কিন্তু সে তুলনায় পর্যাপ্ত অফিস করার ব্যবস্থা বা সুযোগ-সুবিধা নেই। বর্তমানে ​হাসপাতালটিতে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৮ জন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেয়া হলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন। (যার মধ্যে একজন বিডিএস ডাক্তার)। বাকিদের মধ্যে একজনকে জেলা সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং অন্যরা বেতন-ভাতার অভাবে অন্যত্র বদলী হয়ে গেছেন। বর্তমানে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত মেডিকেল অফিসার রোখসানা আফাজকে এ উপজেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সরজমিন দেখা গেছে, কেন্দ্রটির ভেতরের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য ১০ জন আনসার সদস্য থাকার কথা থাকলেও, আবাসন সংকটের কারণে তাদের নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাত্র একজন গার্ডের পক্ষে বিশাল এ কম্পাউন্ডের নিরাপত্তা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মেইন গেইট থাকলেও দুষ্কৃতকারীরা তার তালা ভেঙে ফেলে দেয়। এছাড়া হাসপাতাল কম্পাউন্ডে রয়েছে বড় বড় দুটি ময়লার স্তূপ, যা পরিবেশকে আরো অস্বাস্থ্যকর করে তুলছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোখসানা আফাজ জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সীমিত সাধ্যের মধ্য দিয়ে তাকে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তিনি এ কেন্দ্রে যোগদানের পর মেইন গেট স্থাপন করে কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

তিনি আরো বলেন, একটি ভবনে তিনটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ করা যাচ্ছে না।
জনগণের সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ উপ-কেন্দ্রের উন্নয়নে তিনি যথাযথ আন্তরিকতার সাথে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হবে বলে জানান।

সদর উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ঈদগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবনের জন্য সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। টেন্ডারের মাধ্যমে পরিত্যক্ত তিনটি পুরনো ভবন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নতুন টেন্ডার আহবানের মাধ্যমে নয়া ভবনের নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ ছাবের বলেন, পরিত্যক্ত তিনটি ভবন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এসব বিষয় দেখভাল করছে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নতুন ভবন নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-চট্টলা বাংলা , আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট