শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহেশখালী: সম্ভাবনার দ্বীপ থেকে কৌশলগত অর্থনৈতিক হাবে উত্তরণের গল্প উন্নয়নের মহাযজ্ঞে কতটা বদলেছে মানুষের জীবন? মহেশখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে দ্বিতীয় ধাপের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত উদীয়মান প্রতিভা ইয়াসার আহমদ জীমের অকাল প্রয়াণে মহেশখালীজুড়ে শোক;  দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দাবি! মহেশখালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুঃ পরিবারের দাবি পিটিয়ে হত্যা,তদন্তে পুলিশ! উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু অপহরণ: আরও তিনজন গ্রেপ্তার উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক শিক্ষার্থীদের পাশে পুলিশ: নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে কক্সবাজারে পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ! প্রতিশ্রুতি মিলেছে,মূল্য মেলেনি, মন্ত্রী-এমপির আশ্বাসের পরও বাড়েনি লবণের দাম, সংকটে হাজারো প্রান্তিক চাষী! মানবিকতার আড়ালে স্বার্থের বাণিজ্য: দুর্যোগ আর অসহায়ত্বকে পুঁজি করার উৎসব! অনলাইন শপ Optiluxbd-এর প্রতারণা: লটারিতে জেতা বাইক ১ বছরেও পাননি রোহিঙ্গা যুবক একারাম

বাংলাদেশ কি তাদের বাপের মাতৃভূমি? আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য নয়!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে

এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী:: সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে আরও জমি বা নতুন ক্যাম্প স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ কি তাদের বাপের দেশ? একটি সার্বভৌম ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। তাই সরকারের তরফ থেকে জাতিসংঘের এ আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মূল অবস্থান হলো রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমাকেই করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনেই নিহিত। বাংলাদেশ সরকার বরাবরই সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে যে, তারা আর কোনো নতুন জমি বরাদ্দ দেবে না। শরণার্থী বোঝা ভাগাভাগি করতে এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ জাতিগত নিধন ও সহিংসতার শিকার হয়ে ২০১৭ সাল থেকে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তৎকালীন সময়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই সাময়িক আশ্রয় একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, সামাজিক ভারসাম্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এই বিপুল জনগোষ্ঠীর বোঝা অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাপী অনেক উন্নত ও কম জনবহুল দেশ রয়েছে এমন যৌক্তিক প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে আসাই স্বাভাবিক। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (টঘঐঈজ) প্রতি বছরই কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক শরণার্থীকে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন (জবংবঃঃষবসবহঃ) করে থাকে। তবে এর বাস্তব চিত্র বেশ হতাশাজনক। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি শরণার্থীর পুনর্বাসন প্রয়োজন। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর বেঁধে দেওয়া সীমিত কোটা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে প্রতি বছর এ পুনর্বাসনের হার মাত্র ৭ শতাংশের কাছাকাছি। এ ছাড়াও, আসিয়ান (অঝঊঅঘ) সদস্যভুক্ত অনেক দেশ যারা জনবহুল নয়, তারাও বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে আশ্রয় দিতে অনাগ্রহী। ফলে উন্নত বিশ্বে পুনর্বাসন একটি দীর্ঘমেয়াদী, ধীরগতির ও সীমিত প্রক্রিয়া, যা দিয়ে রাতারাতি ১২ লাখ রোহিঙ্গার সমস্যা সমাধান করা অসম্ভব। বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের একটাই দাবি এ দীর্ঘায়িত সংকট আর বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী সমাধান হলো তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন করে জমি খোঁজার আবদার না করে, মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। রাখাইনে এমন অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেন রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সসম্মানে নিজ ভিটায় ফিরে যেতে পারে।

শুধুমাত্র বাংলাদেশের কাঁধে এই বিশাল মানবিক দুর্যোগের দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া কোনো ন্যায়সঙ্গত সমাধান হতে পারে না। বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গা তরুণ সমাজ যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য তাদের শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি, বিশ্ব সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে যেন তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ এবং নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। এ সংকট সমাধানে অতীতের সফল কূটনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নীতি একটি উজ্জ্বল ও কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে আসে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উত্তরসূরি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও এ সংকট সমাধানে শহীদ জিয়ার সেই বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নীতি অবলম্বন করতে হবে।

১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের (তৎকালীন বার্মা) সামরিক জান্তা ‘কিং ড্রাগন অপারেশন’ চালিয়ে আড়াই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছিল। সেটিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বড় রোহিঙ্গা সংকট। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সাহসিকতা, জাতীয় আত্মমর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমন্বয়ে এ সংকটের সমাধান করেছিলেন। রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা নয়, এটি বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং নিরাপত্তার জন্য একটি টাইম বোম। এ সংকট সমাধানে অতীতের দুর্বল ও তোষামোদি কূটনীতি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান দেখিয়ে গেছেন কীভাবে আত্মমর্যাদা ও বিচক্ষণ কূটনীতির মাধ্যমে মিয়ানমারকে নতজানু করে নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা যায়।
বাংলাদেশ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে গত এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে উদারতা দেখিয়েছে, তার কোনো বিকল্প নেই। তবে এই বোঝা চিরকাল বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জাতিসংঘের উচিত নতুন জমির দাবি বাদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আরো জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা পালন করা। বাংলাদেশ কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাসভূমি হতে পারে না এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই এই সংকটের একমাত্র এবং চূড়ান্ত সমাধান।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গোপনে প্রচারণা চালায় যাতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা রোহিঙ্গাদের মনে ভয় তৈরি করে এবং নাগরিকত্বের শতভাগ নিশ্চয়তা ছাড়া ফিরে না যাওয়ার জন্য উসকানি দেয়। বাস্তবসম্মত ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসনের চেয়ে অবাস্তব শর্ত জুড়ে দিয়ে প্রক্রিয়াটিকে জটিল করে তোলার পেছনে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-চট্টলা বাংলা , আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট