
এইচ.কে রফিক উদ্দিন উখিয়া (কক্সবাজার):: কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এর আগে একই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়াল চারজন। বুধবার ভোররাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবের (২৮), জুবায়ের (৩৭) ও সেলিম (৩৫) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৮ এপিবিএনের গণমাধ্যম শাখা জানায়, গত ২২ জুলাই ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১১-এর ই/৪ ব্লক থেকে ছয় বছর বয়সী রহমত আলীকে অপহরণ করা হয়। সে একই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ জুনায়েদের ছেলে।অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ না করে গত ২৬ জুলাই মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেন। এরপর শিশুটিকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপহৃত শিশুর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ৮ এপিবিএনের নজরে আসে। এরপর বাহিনীর অধিনায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএমের নির্দেশনায় ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা তদন্ত ও অভিযানে নামেন।
এপিবিএন সুত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই রাতে জকরিয়া (৩০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ ভোররাতে ক্যাম্প-১৮-এর কে/৮ ও কে/৯ ব্লকে পৃথক অভিযান চালিয়ে সাবের, জুবায়ের ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা উখিয়া থানায় দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার এজাহারভুক্ত ও তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।