
গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, মহেশখালী (কক্সবাজার):: মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা এলাকায় এক কলেজছাত্রীকে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১ জুলাই বুধবার বিকেলে ঘটিত এই ঘটনাটির পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ‘সশস্ত্র অপহরণের’ অভিযোগ তুললেও স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি, এটি দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্বেচ্ছায় পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা।
ভুক্তভোগী সুমাইয়া সুলতানার (১৭) পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় সুমাইয়া নিজ বাড়িতেই ছিলেন। এ সময় স্থানীয় যুবক জাহেদ, জিদান, বারেক ও ফারুকসহ ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িতে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে সুমাইয়ার বাবা সোনামিয়া ও মা কুলসুমা আক্তার মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন। নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবরের নেতৃত্ব রয়েছে বলে দাবি করছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ মেয়েকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছে।
এদিকে ঘটনার ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সুমাইয়ার সাথে একই এলাকার জাহেদের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা হয়তো পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে হঠাৎ করে বাড়িতে যুবকদের হানা এবং তরুণীকে নিয়ে যাওয়ার এই আকস্মিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরদিন থেকেই ঘটিভাঙ্গা এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে নানা গুঞ্জন ও তথ্য ছড়াচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সচেতন মহল অবশ্য পুলিশি তদন্তের আগে যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মহেশখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মেয়েটির অবস্থান শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া শুরু হয়েছে। এটি জোরপূর্বক অপহরণ নাকি প্রেমঘটিত কারণে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া—সব দিক বিবেচনায় রেখেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে তদন্ত চালাচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষে দ্রুতই প্রকৃত সত্য উন্মোচন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।